হরি ঘোষ, পশ্চিম বর্ধমান: জানেন কী দাদার কীর্তি, সাহেব, গুরুদক্ষিণা, ভালোবাসা ভালোবাসা-য় বাঙালির মন কেড়ে নেওয়া নায়কের জন্মস্থান কোথায়, কোথায় কেটেঠে প্রথম শৈশব? তাঁর ভক্তরা হয়ত বলবেন, নায়ক তো চন্দননগরের ছেলে। কিন্ত তাদের মৃদু হেসে বলার, ভুল। সদ্য প্রয়াত নায়ক তাপস পালের মৃত্যুর পর তাঁকে নিয়ে রাজনীতি একদমই না পসন্দ তাপসের শৈশবকালের বন্ধু বা প্রতিবেশীদের। নায়কের প্রয়াণের পর থেকেই যেভাবে রাজনৈতিক নেতারা তাপস পালকে নিয়ে একে অপরের প্রতি কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি করছেন, সেটা খুবই বিরক্তিকর ঠেকছে দুর্গাপুর থানার অন্তর্গত লাউদোহা গ্রামের বাসিন্দাদের। তাপস পালের শৈশবকালের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে গ্রামবাসীদের কথায় অনেক অজানা তথ্যই উঠে এল এএনএম নিউজ্র ক্যামেরায়। পিতা গজেন্দ্র চন্দ্র পাল পেশায় ছিলেন চিকিৎসক। লাউদোহা সরকারি হাসপাতালে তিনি কর্মরত ছিলেন। এই লাউদোহা গ্রামেই ১৯৫৭ সালে তাপস পালের জন্ম হয়। ১৯৬২ সাল থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত লাউদোহা প্রাথমিক বিদ্যালয় পড়াশোনা করেন তিনি। তারপর চলে যান চন্দননগর। কিন্তু তারপরও তাপস পাল প্রায়ই এই গ্রামে এসে থাকতেন। তাছাড়াও নিকটবর্তী কোন এলাকায় যদি সিনেমার শুটিং থাকত, তাহলেও অতি অবশ্যই তিনি নিজের গ্রামে এসে বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে গল্পগুজব আড্ডা মারতেন। তাপস পাল এলাকায় খুবই শান্ত, লাজুক ও পরোপকারী ছেলে হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। লাউদোহার মানুষ এখনও তাঁকে অভিনেতা হিসেবেই দেখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। তারা তাপস পালের শেষ জীবনে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে করেন।

0 Comments